অজানা অভিযান-মধুপুর জাতীয় উদ্যান

আগে থেকে ঠিক করা ছিল সকালে উঠে মধুপুরের বনের দিকে রওনা হব। রাতে সবুজ হলে থাকার ভাল ব্যবস্থা করেছে ফলে খুব ভাল একটা ঘুম হয়েছিল। প্লান অনুযায়ী কাজ সকালে রওনা হলাম সিএনজি যোগে। একটু অবাক হলাম এদিকের মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলা অতিক্রম করে অনায়াসে সিএনজি যোগে, এটা চট্টগ্রামে অসম্ভব বটে ।

সিএনজি থেকে নেমে একটু অবাক হলাম, কারন এলাকাটা পুরোটাই নিরব । ধারনা করে রেখেছি এলাকাটা অনেক লোকারণ্য হবে কারন পাঠ্যবই, পত্রিকা সহ অনেক পড়ছি এই বনের কথা। কিন্ত এসে বিপরীত দৃশ্য দেখি। কিছুক্ষণ বাহিরে ঘুরাঘুরি করে আমারা বনের ভিতরে প্রবেশ করলাম, সিকিউরিটি রুম থাকলেও কোন সিকিউরিটি গার্ড নেই।

ভিতরের দিকে সোজা একটা পথ, সুশান নিরবতা। আমারা পথ ধরে হাটতে থাকলাম মাঝেমাঝে সোজা পথের শাখা-প্রশাখা বের হয়েছে আমরা একটু যাই আবার মূল পথে ফিরে আসি। যতই ভিতরে তাকাই গাছের মধ্য সতর্কতা মূলক প্যাস্টুন আর সাথে সাথে ভয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকক্ষণ পরপর দুই-একজন মানুষ আসে আর আমাদেরকে একধরনের ভয় লাগানোর মত করে ভলে সামনে আর যাবেন না এদিকের পরিবেশ ভাল না। আমরা এসবের পরোয়া না করে হাঁটতে থাকি কিন্ত পরে জানতে পারি এলাকাবাসীর সৌজন্যে বুঝলাম আমাদের সাথে বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না কারন বনের ভিতরে নাকি বড় বড় ক্রিমিনালদের আবাস। আর ওরা এখানে নিয়মিত অপরাধ করে থাকে। একটু পরে আমরা পথ হারিয়ে ফেলি আর মানুষরা ও সঠিক পথ দেখাচ্ছে না সবাই বলতেছে আবার পূর্বের পথ দিয়ে বেরিয়ে যেতাম। এবার আমাদের একমাত্র অবলম্বন হয় গুগল ম্যাপ। ম্যাপ ধরে হাঠতে থাকি আর মানুষ দেখলে ভয়ে থাকি কারন সবাই শুধু ভয়ের কাহিনি বলেই যাচ্ছিল । প্রায় ২ ঘন্টা হাঁটার পর জনবসতির দেখা পায়। সবাই এমন ভাবে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে মনে হয় আমরা বড় কোন পাপ করে জনসম্মুখে আসছি।

এবার একটা ভ্যানগাড়ি নিয়ে বাহির হয়ে বড় রাস্থায় উঠব। তখন শুনতে থাকি বনের ভয়ার্থ কাহিনি, এখানে নাকি খুন-রাহাজানি , হানাহান, মারামারি নিয়মিত ঘটনা । সাধারনের মানুষের জন্য বিপদসংকুল একট পথ। লোকগুলো বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না আমরা এতটুকু পথ নিরাপধে পার করে চলে আসছি। এভাবেই সমাপ্ত হয় না জানা ভয়ঙ্কর বন অভিজানের সমাপ্তি।

আগামীতে যাওয়ার পূর্বে আশাকরি মধুপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, এই প্রত্যাশা করা ছাড়া আমাদের হাতে কিছু করার থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *