বাংলার স্বর্গ : বান্দরবান-৩ (দামতুয়া ঝরনা)

মারায়তং থেকে নামার পূর্বে অটো চালক মামা এসে হাজির। ফেরার সময় মামার একটি বিষয় নিয়ে সৌরভ ভাইয়ে উপর রাগ দেখাইছিলাম,কিন্ত কিছু বিষয়ে মামা অসাধারন। আলীকদম বাজারে পূর্বে থেকে মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। ব্যাগপ্যাক ঠিকঠাক করে আমরা  মোটরসাইকেলে চড়ে বসি । তখন খেয়াল করলাম ড্রাইভার’রা আমার মত রোগা মানুষদের আগে ডাকে,ভাই আপনি আপনি আমার এখানে যাবেন!!!
মোটরসাইকেল চলা শুরু করল । কিছুক্ষন পর শুরু হল সেই পাহাড়ি বন্ধুর পথ। হঠাৎ নাম শুরু করে, আবার কিছু দেখতে না দেখতে উপরের দিকে!! কিছু মুহূর্ত এমন যে,এটা অনুভূতি নাকি ভয় বুঝা যাই না। একটা ঢালু মোড়ে এমন হয়ছে যে, মোড়টা ক্রস করার পর আমি তানিন ভাইয়ের দিকে তানিন ভাই আমার দিকে। জিজ্ঞাস করলাম ভাই, অনূভূতি কেমন?
তানিন ভাই:- অনূভূতি তো পাইছি সাথে কলিজা নড়েচড়ে বসছে।
আমরা আদুপাড়া ক্রস করে আমরা ডিম পাহাড়ের দিকে রওনা হয় । থানচি-আলিকদম ৩৩ কিলোমিটার সড়ক বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক  । আলিকদম থেকে রাস্তা উপরের দিকে উঠতেছে, ডিমপাহাড়ের নিকটে এটি ২৫০০ ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়েছে।  ডিমপাহাড়ে কিছুক্ষন অবস্থান করে আবার আদুপাড়ায় ফিরে আসি দিনের মূল টার্গেট দমতুয়া’র উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব বলে।

দমতুয়া যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর নির্দেশমতে গাইড নিতে হয়। আমাদের গাইড ধনরয়(যদিও তার নামের উচ্চারন  নিয়ে আমাদের এখনো বিতর্ক আছে)।  কিছুক্ষন হাঁটার পর বিশ্বজিৎ এর ভাষ্য, ভাই ক্রেওক্রাডং তো সহজই ছিল। এখানকার পাহাড়গুলো ছিল বেশি খাঁড়া  পাহাড়ি পথে উঠানামা করতে করতে সবাই ক্লান্ত । কিছু সময় পরপর পাহাড়ি পাড়া দেখা যাই আর মনে মধ্যে প্রশ্ন জাগে ওরা এখানে থাকে কিভাবে? কারেন্ট নেই,মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই,আশেপাশে হাঁট-বাজার নেই।  তাও ওরা দিব্যি চলে যাই। ঝুুমঘরগুলো পাহাড়ের অন্যতম সুন্দর আকর্ষন , চারদিকে পাহাড় মাঝে ছোট একটা টং ঘর ( জুমঘর নামে পরিচিত) ।  চারদিকে জুমের ক্ষেত ,অনেক দূর পর্যন্ত কোনো ঘর-বাড়ি নেই, ক্ষেতের মাঝে একটা ঘর!!
পাহাড়, ঝিরিপথ আর জুম ক্ষেত ধরে ঘন্টাখানেক এগুনোর পর আমরা একটা বেঞ্চের সন্ধান পেলাম। ডনরই জানালো এটা বসার জন্য না, ফল-মূল সাজিয়ে রাখার জন্য। পাশেই ফলের বাগান। সে পাহাড়ি ভাষায় ডাক দিতেই পঞ্চাশোর্ধ এক মহিলা এলো। নিজের মত করে সবাই গাছ থেকে নিয়ে সাবাড় করা শুরু । কিছুটা তো এনার্জি পাবে শরীরে,এর ফল স্বরূপ যদি হাঁটার গতি বাড়ে।
টাকা দেওয়ার সময় বুঝলাম সভ্যতা সাথে বিক্রেতা মহিলার অনেক ফাঁরাক, সে ১০০ টাকার নোট চিনে না, ১০,২০ টাকার নোট গুলো চিনে শুধু!! আমরা তার মাধ্যমে দুয়েকজনের সাথে কথা বললাম। বুঝলাম পাহাড়িরা কথা বলেনা এই ধারণা আমার ভুল ছিল। তাদের সাথে কথা বললে তারাও কথা বলে। হেসে কথা বললে তারা খুশিও হয়।
এখানের পাহাড়গুলো বেশ কষ্টদায়ক , বেশিরভাগ অতিরিক্ত খাড়া। নামার সময় অনেক পথ হলে নামতে হয়,উঠতে হলে উঠতেই হয় ।  যার ফলে আমাদের মধ্যে ভারী মানুষ তানভীর ভাইের ভাষ্য ফেরার পথে আমি পাহাড়গুলো উঠব কিভাবে? তানিন ভাই তো বলেই উঠল, সৌরভ বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?  আনন্দ নিজের কথা সবার উপর দিয়ে চালিয়ে দিয়েছে: এখানে আমি না সবাই বিরক্ত!! এসবেব একটু পর আমরা সেই দমতুয়ার খোজ পেয়ে গেলাম। কোনো কথা না বলে ঝাঁপ , পরে ছবি বা অন্য কিছু হবে।  লাফালাফি-ঝাঁপাঝাঁপি হল ইচ্ছামত, সময় স্বল্পতা আর বৃষ্টি শুরু হওয়ার ফলে আমাদের একই পথ ধরে ফেরা।





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *